অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থবছর পরিবর্তনের প্রভাব শুধু উন্নয়ন বাজেটে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাজস্ব আদায়, কর নির্ধারণ, আয়কর রিটার্ন, ভ্যাট, সরকারি হিসাব, বাজেট প্রণয়ন, বার্ষিক প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সরকারি সফটওয়্যারেও পরিবর্তন আনতে হবে।
কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকা এবং সরকারের রাজস্ব ও ব্যয় পরিকল্পনাও জুলাই-জুন কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
ফলে পুরোনো অর্থবছরের হিসাব কীভাবে বন্ধ হবে, নতুন অর্থবছরের মেয়াদ কত হবে এবং চলমান বাজেটের সঙ্গে নতুন সময়সীমার সমন্বয় কীভাবে করা হবে—সে জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময় নির্ধারণ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থবছর পরিবর্তনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রশাসনিক ও হিসাব ব্যবস্থার রূপান্তর। সরকারি হিসাবরক্ষণ, বাজেট সফটওয়্যার, কর ব্যবস্থা, ব্যাংকিং ও আর্থিক রিপোর্টিংয়ের পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন পরিকল্পনার সময়সূচিও পরিবর্তন করতে হবে।
একই সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বার্ষিক কর্মসম্পাদন সূচক, ক্রয় পরিকল্পনা এবং প্রকল্পের অর্থছাড়ের সময়সূচি নতুন অর্থবছরের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।
এ কারণে অর্থবছর পরিবর্তনকে শুধু ক্যালেন্ডারের তিন মাস এগিয়ে নেওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না; এটি সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন। ফলে এর চ্যালেঞ্জও কম নয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে দরপত্র, কাজের সময়সীমা ও বিল পরিশোধের চক্রে। বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক প্রকল্পে অর্থবছরের শেষদিকে বিল পরিশোধের চাপ তৈরি হয়। অর্থবছর এপ্রিল-মার্চ হলে সেই চাপ মার্চের দিকে চলে যাবে। এতে বছরের কোন সময়ে দরপত্র আহ্বান করা হবে, কখন কার্যাদেশ দেওয়া হবে এবং কোন সময়ে কাজের সর্বোচ্চ গতি থাকবে—এসব নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে।
প্রকল্প পরিচালকদের ক্ষেত্রেও বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা ও অর্থছাড়ের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করতে হবে। প্রকল্পের মেয়াদ যদি জুলাই-জুন ধরে নির্ধারিত থাকে, সেগুলোর সময়সীমা কীভাবে নতুন অর্থবছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

