অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ফাইল আটকে রেখে কাউকে হয়রানির প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। একই সঙ্গে তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে কর সুবিধা নিয়ে পণ্য আমদানি হলেও অনেকে তা বাসাবাড়িতে ব্যবহার করেন। কারণ ব্যবসায়ীরা ধরে নিয়েছেন যে, হক হালালি ব্যবসা করা যাবে না। এই ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। আলোচনার পরপরই এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট অডিট) সৈয়দ মুসফিকুর রহমানকে তলব করে এ বিষয়ে দ্রুত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।সভায় অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমার ক্ষেত্রে নানা ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিইএ) প্রতিনিধি হারেস মোহাম্মদ বলেন, আগে ম্যানুয়ালি রিটার্ন জমা নেওয়া হলেও এখন অনলাইনে তা আপডেট না থাকায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পুরোনো ডেটা আপডেটের বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখছেন। একজনের কাজ অন্যজন করবে বলে ব্যবসায়ীদের ঘোরানো হচ্ছে। এমনকি এনবিআরের নিচু পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধার কারণে অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান স্বীকার করেন, ম্যানুয়াল রিটার্নগুলো অনলাইনে আপডেটের দায়িত্ব এনবিআরের ছিল এবং সেখানে ব্যর্থতা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করা এবং স্বচ্ছতা আনার জন্যই অনলাইন সিস্টেম করা হয়েছে। এখানে কোনো ফাইল পেন্ডিং থাকার সুযোগ নেই।এরপর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ভ্যাট অডিট সদস্যকে ডেকে নির্দেশ দেন, আজ (গতকাল) সন্ধ্যার মধ্যেই ফাংশনাল সার্কেলগুলোতে কোথায় কতটি ফাইল পেন্ডিং আছে, তার রিপোর্ট দিতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন কনভার্ট করার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কেন ঘোরানো হচ্ছে? ৩১ মার্চ সময়সীমা পার হওয়ার পরও কেন কাজ বাকি থাকবে? কোনো অনিয়ম পেলেই সরাসরি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিইএর প্রতিনিধি হারেস মোহাম্মদ বলেন, ভালো ব্যবসায়ীরা নাই হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় আছে। এটার মূল বিষয় হচ্ছে আমদানিতে ভুয়া ঘোষণা। আমদানিতে এই ভুয়া ঘোষণা প্রতিরোধ করা গেলে আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আয় ৫০ শতাংশ বাড়বে।
সভায় বৈদ্যুতিক সুইচ, সকেট, হোল্ডার, প্লাগসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরির কাঁচামালের নিয়ন্ত্রণ মূলক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল মার্চেন্ডাইস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিমা)। সৌর খাতের সম্প্রসারণে আমদানি শুল্ক যৌক্তিকীকরণ, মূল্যায়ন পদ্ধতি সংস্কার ও কর অবকাশের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)। বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ারস (বিএমএটিএস) কাঁচামালের ওপর শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব দিয়েছে। অ্যালুমিনিয়াম তৈজসপত্রে ভ্যাট অব্যাহতি চেয়েছে বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বামা)।বিনিয়োগ বাড়াতে দীর্ঘ সময়ের জন্য কর অবকাশ চেয়েছে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ)। এছাড়া ২০১২ সালের মূসক ও শুল্ক আইনের ২৬ নম্বর ধারার আলোকে অব্যাহতির তালিকায় হাতে তৈরি বিস্কুট ও কেক অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।

