ভ্যাট ও অগ্রিম আয়করে অতি নির্ভরতা বাড়াচ্ছে মূল্যস্ফীতিমোটরসাইকেল চালকদের ওপর করারোপ উচিত নয় : ডা. শফিকুর রহমানব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খরচে বিদেশ যেতে পারবেন না কর্মকর্তারা৫,০০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যে ১ শতাংশ পর্যন্ত সম্পদ কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকারএনবিআরের করজাল বিস্তারে নজর
No icon

দেশীয় শিল্পের অস্তিত্ব সংকটে, সরকার হারাচ্ছে ৫’শ কোটি টাকা রাজস্ব

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, “কর আইন যত জটিল হবে, ব্যবসার ব্যয় তত বাড়বে। ভ্যাট ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ব্যাখ্যানির্ভরতা কমিয়ে সরলতা আনতে হবে। কারণ বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন নীতির স্থিতিশীলতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতাকে।” তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বর্তমান রিটার্ন ও নিবন্ধন ব্যবস্থা এখনও অনেক কঠিন। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিক কর কাঠামোর বাইরে থেকে যাচ্ছে। “করহার বাড়ানোর চেয়ে করভিত্তি সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেয়া উচিত,” বলেন তিনি।


সিএসইআর চেয়ারপার্সন এবং ল্যাবএইড হাসপাতাল গ্রুপের চেয়ারম্যান সাকিফ শামীম বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ভ্যাট ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো ব্যাপক ভিত্তি, স্বল্প জটিলতা এবং উচ্চ কমপ্লায়েন্স। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই দর্শন অনুসরণ করা প্রয়োজন। তার মতে, ভ্যাট আইনে “ইকোনমিক অ্যাক্টিভিটি”-এর মতো জটিল ধারণা প্রশাসনিক ব্যাখ্যার সুযোগ বাড়ায়। এতে ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং আইনের প্রয়োগে বৈষম্য দেখা দিতে পারে। ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় অংশই সফটওয়্যার, ক্লাউড সার্ভিস, অনলাইন কনসালটেন্সি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর। কিন্তু বাংলাদেশের ভ্যাট কাঠামো এখনও অনেকাংশে পণ্যকেন্দ্রিক। ফলে ডিজিটাল সেবার ওপর কর আরোপে নীতিগত অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যাট কাঠামো সংস্কারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। কারণ আইন পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক অডিট ব্যবস্থা, কার্যকর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, স্বচ্ছ আপিল প্রক্রিয়া এবং করদাতাবান্ধব প্রশাসনিক সংস্কৃতি।


সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৬-২৭ বাজেট বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ বাজেটে যদি বাস্তবমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও ব্যবসাবান্ধব ভ্যাট কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া যায়, তবে তা শুধু রাজস্ব বৃদ্ধি নয়, সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পথও সুগম করবে। অন্যথায় জটিলতা ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সাকিফ শামীম আরও বলেন, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বর্তমানে একটি রূপান্তরমুখী সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং অভ্যন্তরীণ রাজন ঘাটতির প্রেক্ষাপটে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট হবে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, বিনিয়োগ সক্ষমতা এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের অন্যতম প্রধান নীতি কাঠামো। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ভ্যাট ব্যবস্থা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে।