সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর বেশি কাটলে ফেরত পাবেন গ্রাহক, রিটার্নেও মিলবে করছাড়নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা বজায় রেখেছে বাংলাদেশ: এডিবি১৬৮ কনটেইনার পণ্য অনলাইন নিলামে তুলছে চট্টগ্রাম কাস্টমসহেবা দলিল নিবন্ধনে উৎসে কর প্রযোজ্য হবে নাশুল্ক অস্থিরতার মাঝেও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে ৪ শতাংশ
No icon

আইএমএফের নতুন ঋণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু

ঢাকায় নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। রোববার(১২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিচিতিমূলক বৈঠকের মধ্য দিয়ে এ আলোচনা শুরু হয়। নতুন তিন বছর মেয়াদি কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ৪ থেকে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে।

আইএমএফের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান ইভো ক্রজনার। সকালে প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকে ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান ও কবির আহাম্মদের সঙ্গে বৈঠক করে। পরে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। দুপুরে আবার বাংলাদেশ ব্যাংকে ফিরে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক বলেন, রোববারের বৈঠক ছিল মূলত পরিচিতিমূলক। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা হবে। বাজেট, রাজস্ব ও সংস্কার গুরুত্ব পাচ্ছে: আইএমএফ মিশনের এবারের সফরে অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক হবে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট, রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কৌশল, কর ছাড়ের যৌক্তিকতা, সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো এবং আর্থিক খাতের সংস্কার।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আগের কর্মসূচির তুলনায় নতুন বাস্তবতায় অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা নির্ধারণ করতে চায় বাংলাদেশ। নতুন ঋণ কর্মসূচির আবেদন:ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের সময় নেওয়া ঋণ কর্মসূচি থেকে বের হয়ে গত জুনে নতুন কর্মসূচির আওতায় ঋণের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করে বাংলাদেশ। সরকারের প্রত্যাশা, তিন বছর মেয়াদি নতুন কর্মসূচির আওতায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার পাওয়া যাবে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী একাধিকবার বলেছেন, আগের কর্মসূচি গ্রহণের সময়কার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন আর নেই। রাজনৈতিক পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের কারণে অনেক সংস্কার সময়মতো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তাই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি প্রয়োজন।

অক্টোবরে পরবর্তী ধাপ:বর্তমান সফর শেষে আইএমএফ প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই প্রতিবেদন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবরের আইএমএফ-विश्वব্যাংকের বার্ষিক সভার পর চূড়ান্ত আলোচনার জন্য আরেকটি মিশন বাংলাদেশে আসতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে নতুন কর্মসূচির ঋণ ছাড় শুরু হতে পারে।

আগের ঋণ কর্মসূচির কী অবস্থা:বাংলাদেশ ২০২৩ সালের শুরুতে আইএমএফের সঙ্গে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে ২০২৫ সালের জুনে কর্মসূচির আকার বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার করা হয়।এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। বাকি রয়েছে ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন সংস্কার শর্ত বাস্তবায়নে অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় তা স্থগিত থাকে।

আইএমএফ স্পষ্ট করেছে, অবশিষ্ট অর্থ ছাড়ের আগে রাজস্ব আহরণ, আর্থিক খাতের সংস্কারসহ বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়নে অগ্রগতি দেখতে চায় তারা।

মতপার্থক্যের পর নতুন সমঝোতার চেষ্টা: বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমে চলমান কর্মসূচির পাশাপাশি অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলার ঋণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করলেও পরে কঠোর শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়।গত ১১ মে অর্থমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেন, আইএমএফের সব শর্ত বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য উপযোগী নয় এবং জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার সব শর্ত মেনে চলতে পারবে না।

তবে পরে গত ২১ মে আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে সরকার নতুন ঋণ কর্মসূচি শুরু করার আগ্রহ জানায়। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, আইএমএফও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক ভাবে গ্রহণ করেছে।

সরকারের অবস্থান হলো, সংস্কার কার্যক্রম থেকে সরে আসা নয়; বরং দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবসম্মত সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো।