ভ্যাট ও অগ্রিম আয়করে অতি নির্ভরতা বাড়াচ্ছে মূল্যস্ফীতিমোটরসাইকেল চালকদের ওপর করারোপ উচিত নয় : ডা. শফিকুর রহমানব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খরচে বিদেশ যেতে পারবেন না কর্মকর্তারা৫,০০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যে ১ শতাংশ পর্যন্ত সম্পদ কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকারএনবিআরের করজাল বিস্তারে নজর
No icon

ডিজিটাল অর্থনীতির যুগে ভ্যাট ব্যবস্থা আধুনিকায়নের আহ্বান

বাংলাদেশের ভ্যাট ব্যবস্থা আবারও নীতিনির্ধারণী আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে ভ্যাট কাঠামো সরলীকরণ, ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা এবং ব্যবসাবান্ধব প্রশাসনিক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও কর বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় শুধু করহার বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধি সম্ভব নয়। বরং কার্যকর, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর ভ্যাট কাঠামো গড়ে তুলতে পারলেই দীর্ঘমেয়াদে করভিত্তি সম্প্রসারণ এবং স্বেচ্ছায় কর পরিপালনের সংস্কৃতি তৈরি হবে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ (সিএসইআর) এবং ভ্যাট বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাবনায় ভ্যাট আইনের কয়েকটি মৌলিক সংস্কারের বিষয় উঠে এসেছে।


এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সংজ্ঞা সরলীকরণ, আমদানির সংজ্ঞায় ডিজিটাল সেবা অন্তর্ভুক্ত করা, কর গণনা পদ্ধতি সহজ করা এবং টার্নওভার ও নিবন্ধন কাঠামো পুনর্বিন্যাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ভ্যাট ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আইনের জটিলতা এবং প্রশাসনিক ব্যাখ্যানির্ভরতা। এতে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়ছে এবং করদাতাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।
এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, সরকার রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি করব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ করছে। তার ভাষায়, “ভবিষ্যতের কর প্রশাসন হবে অটোমেশনভিত্তিক। আমরা এমন একটি ভ্যাট ব্যবস্থা চাই যেখানে করদাতা ও প্রশাসনের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমে আসবে এবং স্বেচ্ছায় কর পরিপালন বাড়বে।” তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল সেবা ও সীমান্তপারের লেনদেন বাড়ার ফলে প্রচলিত ভ্যাট কাঠামোকে আধুনিকায়ন করা এখন বেশ জরুরি। তবে যেকোনো সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যবসা ও শিল্পখাতের সক্ষমতা বিবেচনায় নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য ভ্যাট ব্যবস্থার দাবি জানানো হচ্ছে।