ভ্যাট ও আয়কর সনদ জুয়েলারি শো-রুমে প্রদর্শন করুন : বাজুসকরজাল সম্প্রসারণে এনবিআরের মহাপরিকল্পনা, ‘টার্গেট’ বাড়িওয়ালারাওজ্বালানি খাতে বকেয়া শুল্ককর ৫৫ হাজার কোটি টাকাবাড়বে ভ্যাট, বাড়তি দামের চাপে ভুগতে হবে ভোক্তাদের। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ দাম বাড়াচ্ছে পাইপের
No icon

সিগারেটে রাজস্ব ক্ষতি ৩৫০০ কোটি টাকা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঢিলামি ও ভুল নীতির কারণে সরকার ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারিয়েছে।এনবিআর-এর বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বাড়তি দরে সিগারেট বিক্রি করায় এ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। এতে ভোক্তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আর সরকার বঞ্চিত হয়েছে প্রাপ্য রাজস্ব থেকে।এই প্রেক্ষাপটে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেটের খসড়া চূড়ান্ত করতে রেওয়াজ অনুযায়ী আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে এনবিআর-এর প্রতিনিধিদল। বৈঠকে সিগারেটের বিক্রয়মূল্য, ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণসহ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী।গত অর্থবছরে সিগারেট খাতে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট আদায় হয়েছে, যা মোট আদায়কৃত ভ্যাটের প্রায় ৩০ শতাংশ। রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে বড় একক খাত হওয়ায় আগামী বাজেটে সিগারেট খাতে এনবিআর-এর বিশেষ নজর থাকবে।এ খাতে রাজস্ব পরিহার রোধে আইনি কঠোর পদক্ষেপ থাকবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সিগারেটের বিক্রয়মূল্য, করমুক্ত আয়ের সীমা, সারচার্জ বা সম্পদ করের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ও রাজস্ব নীতিসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন। মূলত এ বৈঠকে বাজেটে রাজস্ব নীতি চূড়ান্ত হবে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সিগারেটের মূল্য নির্ধারণেই গোঁজামিল আছে।

বর্তমান সময়ে খুচরা পয়সার প্রচলন বা বিনিময় মূল্য না থাকা সত্ত্বেও প্রতি শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য নির্ধারণে ভাঙতি পয়সা রাখা হয়। এ কারণে খুচরা পর্যায়ে বিক্রির সময় পূর্ণাঙ্গ টাকায় মূল্য রাখা হয়। যেমন ১৪ টাকা ২০ পয়সার বেনসন বা মালবোরো সিগারেট ১৫-১৬ টাকা বিক্রি হচ্ছে।বর্ধিত এ অর্থ থেকে এনবিআর অতীতে কখনো রাজস্ব আদায় করতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। তাই ভবিষ্যতে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।তিনি আরও বলেন, বর্ধিত দামে সিগারেট বিক্রির বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই এনবিআর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে পারত।প্রতিবছর বাজেটে এনবিআর সিগারেটের বিক্রয়মূল্য, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট নির্ধারণ করে দেয়। যেমন, চলতি বাজেটে অতি উচ্চস্তরের (বেনসন, মালবোরো) ১০ শলাকা সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ১৪২ টাকা।একইভাবে উচ্চস্তরের (গোল্ডলিফ) ১০ শলাকার মূল্য ১১১, মধ্যম স্তরের (স্টার, নেভি) ১০ শলাকার মূল্য ৬৫ এবং নিম্নস্তরের (হলিউড, ডার্বি) ১০ শলাকার মূল্য ৪০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। অতীতে এই মূল্যেই খুচরা পর্যায়ে সিগারেট বিক্রি হলেও গত কয়েক বছর ধরে খুচরা বিক্রেতারা বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করছেন।

পাশাপাশি অতি উচ্চস্তর, উচ্চস্তর, মধ্যম স্তরের সিগারেট উৎপাদনে সম্পূরক শুল্ক ৬৫ শতাংশ এবং নিম্নস্তরের সিগারেটে ৫৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ মূসক বা ভ্যাট রয়েছে। সব মিলিয়ে অতি উচ্চস্তর, উচ্চস্তর, মধ্যম স্তরের সিগারেটে শলাকাপ্রতি ৮০ শতাংশ এবং নিম্নস্তরের সিগারেটে ৭২ শতাংশ রাজস্ব আরোপিত আছে।হিসাব মতে, এক শলাকা বেনসন ও মালবোরো বিক্রি হওয়ার কথা ১৪ টাকা ২০ পয়সা দরে; কিন্তু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫-১৬ টাকা দরে। একইভাবে ১১ টাকা ১০ পয়সার গোল্ডলিফ ১২ টাকায়, ৬ টাকা ৫০ পয়সার স্টার ও নেভি ৭ টাকা এবং ৪ টাকার ডার্বি, হলিউড ও শেখ বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকায়।খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামে সিগারেট বিক্রি করায় প্রতি শলাকায় (৮০ পয়সা/১.৮০ টাকা* ৮০ শতাংশ) অতি উচ্চস্তরের সিগারেটে ৬৫ পয়সা থেকে ১ টাকা ৪৪ পয়সা, উচ্চস্তরে ৭২ পয়সা, মধ্যমস্তরে ৪০ পয়সা এবং নিম্নস্তরের সিগারেটে (১ টাকা* ৭২ শতাংশ) ৭২ পয়সা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।