করদাতাদের আয়, ব্যয় ও সম্পদ ট্র্যাকিংয়ে ডেটাভিত্তিক ব্যবস্থার পরিকল্পনা এনবিআরেরকানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসাল যুক্তরাষ্ট্রকরছাড় পেতে এসএমই ফাউন্ডেশনে নিবন্ধন শুরুস্পট মার্কেট থেকে আরো ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকারএনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত
No icon

মূল্যস্ফীতি কমানো ও বিনিয়োগ বাড়ানো বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ: এমসিসিআই

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ফেরানো, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটানো—এখন এসবই বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ।

এর মধ্যে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরলেও দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির চাপ কাটেনি। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগে স্থবিরতার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। রপ্তানিতেও প্রবৃদ্ধি দুর্বল।

তবে সামগ্রিকভাবে এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে মনে করছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। তাদের পর্যবেক্ষণ, অর্থনীতির এই পুনরুদ্ধারকে টেকসই করতে মূল্যস্ফীতি কমানোর পাশাপাশি ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটাতে হবে, বাড়াতে হবে বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ। সেই সঙ্গে বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখায় অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এমসিসিআইয়ের ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: এপ্রিল-জুন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতির এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সাময়িক হিসাবে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হয়েছে। আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তবে এই প্রবৃদ্ধি দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার তুলনায় এখনো কম।

মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমলেও তা এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়। জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমেছে, মে মাসে যা ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ হয়েছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও জ্বালানির দামের চাপ এখনো মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে বৈদেশিক খাত অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তির জায়গা হয়ে উঠেছে। এপ্রিল-জুন সময়ে দেশে ৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন বা ৯৩৮ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। জুন শেষে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে, মে শেষে যা ছিল ৩৪ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।

তবে রপ্তানি খাতে সেই স্বস্তির প্রতিফলন দেখা যায়নি। জুনে রপ্তানি আয় অনেকটা বেড়ে ৪ দশমিক ১৯ বিলিয়ন বা ৪১৯ কোটি ডলারে উঠলেও পুরো অর্থবছরে রপ্তানি আয় বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ। অর্থবছর শেষে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৮৩৮ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে যা ছিল ৪৮ দশমিক ৩০ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার। অর্থাৎ সামান্য বেশি।

দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল। এর বড় নজির হলো বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের ধীরগতি। ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জুন মাসের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এর বিপরীতে সরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

রাজস্ব ও সরকারি উন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রেও চাপ আছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। তবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার চেয়ে আদায় কম হয়েছে ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা বা ১৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। একই সময়ে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশে নেমেছে, এক দশকের মধ্যে যা সর্বনিম্ন।

বৈদেশিক লেনদেনের সামগ্রিক হিসাবে বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ব্যালান্স অব পেমেন্টে ৬ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত হয়েছে। তবে এই উদ্বৃত্তের বিপরীতে বাণিজ্যঘাটতি ৩৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ২৭ দশমিক ২৯ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৭২৯ কোটি ডলারে উঠেছে। একই সময়ে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ১৫ দশমিক ০২ শতাংশ কমে ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারে নেমে এসেছে।

প্রতিবেদনের ভাষ্য, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার কিছু লক্ষণ দেখা গেলেও পুনরুদ্ধারে গতি আনতে চিহ্নিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।