স্যানিটারি পণ্যে সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতির প্রস্তাবব্যবসাবান্ধব কাস্টমস ও ভ্যাট কাঠামো চান উদ্যোক্তারাকোম্পানি করদাতাদের রিটার্ন জমার সময় বেড়েছে দুই মাসরিটার্ন না দেওয়া বাড়িওয়ালাদের খুঁজতে বিশেষ অভিযান: এনবিআররেমিট্যান্সের ওপর কর প্রত্যাহারের দাবি
No icon

দেশের অর্থনীতিতে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মূল্যস্ফীতি

বর্তমানে  মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। তাই আগামী বাজেটে আমদানি ও স্থানীয় পর্যায়ে বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাব করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি বলছে, শুল্ক-কর কমানো হলে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

 আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রাক্‌-বাজেট আলোচনায় এ প্রস্তাব করেছে সিপিডি। এ সময় সিপিডির পক্ষ থেকে আমদানি করা ২৮টি পণ্যের একটি তালিকাও এনবিআরকে দেওয়া হয়। আগামী বাজেটে এসব পণ্যে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। তবে কোন পণ্যে কতটুকু শুল্ক-কর কমাবে তা এনবিআরকেই ঠিক করার অনুরোধ করেছে তারা।

সিপিডি যেসব পণ্যের শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাব করেছে তার মধ্যে রয়েছে, বিভিন্ন ধরনের হিমায়িত পশুর মাংস (গরু, মহিষ, ভেড়া ইত্যাদি), মুরগি, মাছ (রুই, কাতলা, পাঙাশ, কার্প ইত্যাদি), ইলিশ, বিভিন্ন ধরনের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, টমেটো, পেঁয়াজ, রসুন, খেজুর, দারুচিনি, গোলমরিচ (পিপার), ধনিয়া, আদা, হলুদ, ভুট্টা, চাল, পাম তেল ও লবণ। 

এ ছাড়া সিপিডি বলেছে, যাঁদের আয় বেশি, তাঁদের আয়করের হার বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা উচিত। পাশাপাশি ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সেটি করা সম্ভব না হলে বিকল্প হিসেবে সিপিডির প্রস্তাব, করমুক্ত আয়সীমার অতিরিক্ত এক লাখ টাকা আয়ের ক্ষেত্রে যে ৫ শতাংশ আয়কর দিতে হয়, তার সীমা বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা হোক। এতে সীমিত আয়ের মানুষেরা স্বস্তি পাবেন।

গবেষণা সংস্থাটি আরও বলেছে, বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কর অব্যাহতির আরও দাবি আসবে। কিন্তু এনবিআরকে নতুন করে কর ছাড় দেওয়ার আগে সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ ছাড়া কর অব্যাহতির ধারা থেকে বের হয়ে আসার জন্য মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা ও সময়সীমা নির্ধারণ করা দরকার।  

ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বর্তমানে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। এটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে সিপিডি। এ ছাড়া মাসিককালীন পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক পণ্যের (যেমন স্যানিটারি ন্যাপকিন, টাওয়েল ইত্যাদি) কাঁচামাল আমদানিতে শূন্য শুল্ক হার নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে সিপিডি। বর্তমানে মাসিককালীন পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক পণ্য আমদানিতে প্রায় ১২৮ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। এটিকে কমিয়ে ৩২ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে সিপিডি। 

সিপিডি ছাড়াও প্রাক্‌–বাজেট আলোচনায় অংশ নেয় এসএমই ফাউন্ডেশন, সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস), বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি (বিইএ), ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপ (ইআরজি), প্রাইসওয়াটারহাউস কুপারস (পিডব্লিউসি) ইত্যাদি। এসএমই ফাউন্ডেশন তাদের বাজেট প্রস্তাবে বলেছে, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো জাতীয় শিল্পনীতিতে উল্লিখিত সংজ্ঞা অনুসরণ করে কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্প খাতে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে সিএমএসএমইর কোনো সংজ্ঞা নেই। তাই এ খাতের জন্য এনবিআর সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য অগ্রাধিকারমূলক কর ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি।

এসএমই ফাউন্ডেশনের দেওয়া অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে জাতীয় এসএমই ই-ডেটা বেজে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোক্তাকে ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কর মওকুফ সুবিধা দেওয়া, উৎপাদিত পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর ৭ শতাংশের পরিবর্তে ২ শতাংশ করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ১ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে আমদানির সুযোগ অব্যাহত রাখা। এ ছাড়া অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিক্রীত পণ্য ও স্টল ভাড়ার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি দিয়ে আইনি বিধান সন্নিবেশের পরামর্শ দিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন।