পুরস্কার পাচ্ছে সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতা ১২৯ প্রতিষ্ঠানসেরা ভ্যাটদাতার সম্মাননা দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডশুল্ক ও করের কারণে অসম প্রতিযোগিতায় পড়তে হচ্ছেআয়কর প্রদানের সক্ষম লোকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখকর-সংক্রান্ত জ্ঞান উদ্যোক্তার জন্য অপরিহার্য
No icon

অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়ছেই

বিশ্বজুড়েই অর্থনীতির পরিস্থিতি টালমাটাল। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ধারণা, আগামীতে অনেক দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) কমে মন্দার ঝুঁকি বাড়াবে। বাংলাদেশের মতো যাদের জিডিপির আকার কমবে না বলে পূর্বাভাস রয়েছে, সে দেশগুলো কি বিপদে নেই? সম্প্রতি এর একটি উত্তর দিয়েছেন আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিনা জর্জিভা। তাঁর মতে, যেখানে প্রবৃদ্ধি হবে, সেখানেও অনেক লোকের জন্য মন্দা অনুভূত হতে পারে। এর কারণ, জিনিসপত্রের দামে ঊর্ধ্বগতি এবং মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়া।দেশের সাধারণ মানুষের আলোচনার বিষয় মূলত এখন দুটি- রাজনীতি আর অর্থনীতি। যাঁরা দেশ-বিদেশের খোঁজ-খবর রাখেন, তাঁদের অনেকেই প্রশ্ন করেন- দেশে কি মন্দা আসছে? সাধারণ মানুষের এ প্রশ্নের উত্তরে বিশ্লেষকরা সরাসরি কিছু বলছেন না। তবে অর্থনীতি কিংবা মানুষের জীবন-জীবিকা যে নিচের দিকে নামছে, সামনে বিপদের ঝুঁকি বাড়ছে- এমন মতই আসছে বেশি। বিভিন্ন পরিসংখ্যানও এমন ধারণাকে সমর্থন দিচ্ছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ঝুঁকির মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ কোথায় আছে, আগামীতে কোন দিকে যাচ্ছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এই অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর গেল সাড়ে তিন মাসে অর্থনীতির অবস্থা অনেক নাজুক হয়েছে। আগামীতে আরও দুর্বল হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ফলে বাজেটের বিভিন্ন প্রাক্কলন অনেক ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, শুধু গরিব মাষ নয়, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জন্যও সরকারের লক্ষ্য-নির্দিষ্ট খরচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথাগত বিপন্ন মানুষের সঙ্গে তাদেরও সুরক্ষা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।শেষতক দেখতে হবে, সরকারের হাতে খরচযোগ্য সম্পদ কত আছে। কর আদায় গত অর্থবছরের চেয়ে এখন পর্যন্ত ভালো। এখানে আরও মনোযোগ দিতে হবে। বিদেশে শ্রমিক যাওয়া বাড়লেও রেমিট্যান্স সেভাবে আসছে না। এখানে হস্তক্ষেপ দরকার। বড় অঙ্কের বিদেশি সহায়তা পাইপলাইনে আছে, যা দ্রুত অবমুক্ত করতে হবে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ আরও মসৃণ হতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর দিকে দিতে হবে বিশেষ নজর। এ জন্য রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়ানোর পাশাপাশি বাইরে থেকে বড় অঙ্কের বাজেট সহায়তা আনতে হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চাহিদা ও সরবরাহ- উভয় দিক থেকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। চাহিদা কমাতে তুলে দিতে হবে সুদের হারের সীমা। অন্যদিকে সরবরাহ বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদনে উৎসাহিত করা, উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত বাড়ানো এবং একই সঙ্গে বাড়াতে হবে সার্বিক উৎপাদনশীলতা। বন্ধ করতে হবে পণ্য পরিবহনে রাস্তাঘাটে টোল আদায়। সীমান্তে পণ্য আটকে থাকা পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে। সরকার সক্রিয় হলে নানা কারণে তৈরি হওয়া বাড়তি খরচের চাপ কমানো যাবে।