১৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি, সেই কর কর্মকর্তা লিংকন রায় বরখাস্ত৩৮ লাখ টাকা নিয়ে কর নথি পরিবর্তন, কর কর্মকর্তার পদোন্নতি ৮ বছর স্থগিতআয় প্রাক্কলন করেই কর ফাঁকির জরিমানা নয়: এনবিআরের নির্দেশনাকর মওকুফ চায় প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক কোম্পানিকাস্টমস ও ভ্যাট ক্যাডারের পাঁচ কমিশনারের রদবদল
No icon

আয় প্রাক্কলন করেই কর ফাঁকির জরিমানা নয়: এনবিআরের নির্দেশনা

শুধু করদাতার আয় অনুমান বা প্রাক্কলন করেই কর ফাঁকির অভিযোগে জরিমানা আরোপ করা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন হবে গ্রহণযোগ্য দালিলিক প্রমাণ, যা দেখাবে যে আয়, সম্পদ, দায় বা ব্যয় গোপন করে কিংবা মিথ্যাভাবে দেখিয়ে কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরিমানা আরোপের আগে করদাতাকে শুনানিতে অংশ নেওয়ার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দেওয়াও আবশ্যক।আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৭২ ধারার প্রয়োগ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই নির্দেশনা দিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের সইয়ে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এই আদেশ জারি হয়।আদেশ অনুযায়ী, আইনের ১৯ নম্বর অংশে উল্লিখিত যেকোনো ধরনের জরিমানা আরোপের আগে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে শুনানির সুযোগ দিতে হবে এটি ২৭২ ধারার আওতাধীন জরিমানার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। উপ-কর কমিশনারকে প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এই ধারা প্রয়োগযোগ্য কি না; প্রযোজ্য হলে একই আদেশে জরিমানা বসাতে হবে, নইলে জরিমানা আরোপের সুযোগ থাকবে না।

চাকরি, ভাড়া, কৃষি, ব্যবসা-পেশা, মূলধনী আয়, আর্থিক পরিসম্পদ ও অন্যান্য উৎস থেকে আয়ের ক্ষেত্রে ২৭২ ধারার প্রয়োগ পৃথকভাবে ব্যাখ্যা করেছে এনবিআর। এসব খাতের কোনো আয় গোপন বা মিথ্যাভাবে প্রদর্শনের কারণে কর ফাঁকি ঘটলে জরিমানা প্রযোজ্য হবে। কিন্তু করযোগ্য আয়কে ভুলবশত করমুক্ত মনে করা, আইনের কোনো বিধান পালনে ব্যর্থতা কিংবা কোনো করমুক্ত আয় পরবর্তীতে আইনের চোখে করযোগ্য বিবেচিত হলে এই কারণগুলোতে একা ২৭২ ধারার জরিমানা প্রযোজ্য হবে না।ভাড়া, কৃষি, ব্যবসা-পেশা, মূলধনী আয় এবং আর্থিক পরিসম্পদ থেকে আয়ের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য দালিলিক প্রমাণ ছাড়া কেবল প্রাক্কলনের ভিত্তিতে জরিমানা করা যাবে না। বিশেষভাবে ভাড়া আয়ের ক্ষেত্রে যৌক্তিক ভাড়ামূল্য অনুমান করাও জরিমানার জন্য যথেষ্ট ভিত্তি হবে না।আইনের ৬৬ ধারায় উল্লিখিত অন্যান্য উৎসের আয় গোপন বা মিথ্যাভাবে দেখানো হলে জরিমানা করা যাবে, তবে এখানেও দালিলিক প্রমাণ ছাড়া নিছক প্রাক্কলন জরিমানার ভিত্তি হতে পারবে না।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ৬৭ ধারার উপধারা (৩) ব্যতীত অন্য কোনো উপধারার প্রয়োগে যদি কোনো করদাতার অন্যান্য উৎস থেকে আয় তৈরি হয়, তাহলে সেই আয়ে ২৭২ ধারার জরিমানা প্রযোজ্য নয়। তবে উপধারা (৩)-এর প্রয়োগে সৃষ্ট আয়ের ক্ষেত্রে জরিমানা আরোপ করা যাবে যদিও সেখানেও দালিলিক প্রমাণ ছাড়া কেবল প্রাক্কলনের ভিত্তিতে জরিমানা বসানো যাবে না বলে আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে।