TAXNEWSBD
পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পর্ষদ গঠনের দাবিতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬ ১৮:১৯ অপরাহ্ন
TAXNEWSBD

TAXNEWSBD

দুই মাসের বেশি সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ ছাড়াই চলছে ইসলামী ব্যাংক। একটি ব্যাংক পর্ষদ ছাড়া চলতে পারে না উল্লেখ করে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের উদ্যোগে রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিকের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোতাছিম বিল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে ব্যাংকের গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা বক্তব্য দেন। 

সমাবেশে অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, একটি ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ ছাড়া চলতে পারে না। তাই দ্রুত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পর্ষদ গঠনের দাবি জানান তিনি।

আইনজীবী পরিবর্তন ও বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, সরকারের ভেতরে থাকা এস আলম গ্রুপের সুবিধাভোগীরা ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা-সংক্রান্ত বিচারিক মামলায় প্রভাব বিস্তার করছেন। ইসলামী ব্যাংকের দায়ের করা মামলা যখন নিষ্পত্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার কাইয়ুমকে পরিবর্তন করে একজন জুনিয়র আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষের আইনজীবীকেও পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এস আলম গ্রুপের পক্ষে রায় নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসব পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিচারের নামে কোনো ধরনের প্রহসনের রায় ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহকেরা মেনে নেবেন না।

ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ২০১৭ সালে পরিবর্তন হওয়া ব্যাংকের মালিকানা প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।  

এ ছাড়া বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে ব্যাংকের দায় পরিশোধের ব্যবস্থা, এস আলমসহ ব্যাংক লুটেরাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের দেনা পরিশোধ, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে অনিয়মকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ বন্ধ এবং সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে দেওয়া অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা পরিবারের সম্পদ নয়। এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। তাই গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তারা অভিযোগ করেন, গত দুই মাসে গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তেমন কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। উল্টো গ্রাহকেরা আমানতের সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলন করলে সেখানে রাজনীতি খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুত এই সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে মহাসমাবেশসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে নেতারা হুঁশিয়ারি দেন।

গ্রাহকদের আন্দোলন ও বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে ইসলামী ব্যাংকের বিতর্কিত চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর গত ১৫ জুন থেকে পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ ছাড়াই চলছে ব্যাংকটি। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ জহির হোসেন চলতি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বেই ব্যাংকটির পরিচালনা কার্যক্রম চলছে।

দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন না হওয়ায় সাধারণ গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।