TAXNEWSBD
লাভে-লোকসানে ১ শতাংশ কর আরোপ বাতিলের আহ্বান ঢাকা ট্যাক্সেস বারের
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ ১৩:৪২ অপরাহ্ন
TAXNEWSBD

TAXNEWSBD

মুনাফা বা লোকসান নির্বিশেষে যেকোনো পরিমাণ বিক্রির (গ্রস প্রাপ্তি) ওপর ঢালাওভাবে ১ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স আরোপ বাতিলের প্রস্তাব করেছে ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন। তারা আয়কর আইনের নতুন সংশোধনী বাতিল করে আগের আয়কর আইন পুনর্বহালের প্রস্তাব করেছে।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর প্রেরিত এক চিঠিতে এই দাবি জানান সংগঠনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান (দুলাল) এবং সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন খান।অর্থ আইন ২০২৬-এর মাধ্যমে আনা এই পরিবর্তনের ফলে ছোট-বড় ব্যবসায়ী ও করদাতাদের ওপর চরম আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই জটিলতা নিরসনে ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের পরিবর্তে পূর্ববর্তী ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আয়কর আইন পুনর্বহালের জোরালো দাবি জানিয়েছে তারা। এছাড়া নতুন বাজেটে সংশোধন হওয়া আয়কর আইনের কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন চেয়েছে সংগঠনটি।সংগঠনটি বলছে, পূর্ববর্তী আইনে ৫০ লাখ টাকার বেশি গ্রস প্রাপ্তি থাকা ফার্ম/ব্যক্তি সংঘ এবং ৪ কোটি টাকার বেশি প্রাপ্তি থাকা স্বাভাবিক ব্যক্তির ক্ষেত্রেই কেবল ১ শতাংশ ন্যূনতম করের বিধান ছিল। তবে নতুন আইনে কোনো ন্যূনতম প্রাপ্তির সীমা না রেখে লাভ-ক্ষতি নির্বিশেষে যেকোনো ব্যক্তির ব্যবসা বা পেশার ওপর ১ শতাংশ হারে টার্নওভার ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়েছে। অধিকতর কর ও করদাতা বান্ধব হওয়া আগের আইনটি পুনর্বহাল চেয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটি বলছে, আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, সম্পত্তি হস্তান্তর ও রপ্তানি প্রণোদনার উৎস কর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত হতো। নতুন আইনে এটিকে অগ্রিম কর করায় পেনশনভোগী ও সাধারণ সঞ্চয়কারীরা চরম হতাশ হচ্ছেন। এ কারণে সংগঠনটি আগের আইনের পুনর্বহাল চেয়েছে।পার্টনারশিপ ফার্মকে কোম্পানি ক্যাটাগরিতে ফেলা বিষয়টির ও পরিবর্তন করতে বলেছে। নতুন আইনে সাধারণ ফার্মকে কোম্পানির সমকক্ষ করদাতা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুৎসাহব্যঞ্জক।সংগঠনটি বলছে, কোম্পানি গঠনের ক্ষমতা নেই এমন উদ্যোক্তারাই দেশে ফার্ম করার উদ্যোগ নেন। তারা আগের মত ফার্ম শ্রেণীর করদাতাদের ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাদের মত আওতাভুক্ত করার প্রস্তাব করেছে।এছাড়া নতুন আইনে জমির বিনিময়ে প্রাপ্ত ফ্ল্যাট বা স্পেসের ওপর ১৫% হারে মূলধনী কর আরোপ করা হয়েছে, যা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার পরিপন্থি ও আবাসন শিল্পের জন্য ক্ষতিকর। সংগঠনটি আগের আইনের পূনর্বহাল চেয়েছে।আগের আয়কর আইনের ৫৮ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, হাউজিং ডেভলপারের সহিত চুক্তি মূলে প্রাপ্ত সাইনিং মানি কর যোগ্য ছিল। এছাড়াও ভূমির বিনিময়ে প্রাপ্ত ফ্ল্যাট বা স্পেস করযোগ্য মূলধনী সম্পদ হিসেবে বিবেচ্য ছিল না।