TAXNEWSBD
বছরজুড়ে চাপে থাকবে ভোক্তা ও এনবিআর
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
TAXNEWSBD

TAXNEWSBD

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) রাজস্ব আহরণে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এনবিআরকে আগামী অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আহরণ করতে হবে। এই লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি এবং সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা বেশি। বিশেষজ্ঞরা জানান, বাজেটের নীতিগত কাঠামো শক্তিশালী হলেও তা বাস্তবায়নের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল। সম্পদের চেয়ে বাজেটের আকার বড় করা হয়েছে। রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা অনেক বেশি। ফলে অর্থবছর শেষে বিশাল আকারে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি থাকবে। অন্যদিকে, বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এমনিতেই হাঁসফাঁস অবস্থা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের। তাই বাড়তি করের জোগান দিতে গিয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তাদের জীবনযাত্রায়। আর মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার পথনকশা না থাকায় এনবিআরের পক্ষেও লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। সব মিলিয়ে অর্থবছরজুড়ে সাধারণ মানুষ ও রাজস্ব বোর্ড উভয়কেই চরম চাপে থাকতে হবে।অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়বে। এনবিআরের নীতি বিভাগ এবং বাস্তবায়ন বিভাগ আলাদাভাবে কাজ করবে। দুর্নীতি কমিয়ে আনা হবে। এক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন করা হবে।

রাজস্ব কৌশলই হবে এই বাজেটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। জিডিপির ৭ শতাংশের নিচে কর-জিডিপি অনুপাত নিয়ে বাংলাদেশ আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্র, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো, জলবায়ু সহনশীলতা এবং শিল্প রূপান্তরে অর্থায়ন করতে পারবে না বাজেট এটি স্বীকার করেছে। পাশাপাশি ডিজিটালাইজেশন, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট, করভিত্তি সম্প্রসারণ, করছাড় পর্যালোচনা এবং করনীতি ও কর প্রশাসন পৃথক করার প্রস্তাবও দিয়েছে। এগুলো যুক্তিসংগত সংস্কার। সাফল্য নির্ভর করবে নজরদারিযোগ্য সংস্কারসূচক, স্বচ্ছ কর-ব্যয় হিসাব, প্রণোদনার সময়সীমা এবং কর-ছাড়ের সঙ্গে কর্মসংস্থান, রপ্তানি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, উৎপাদনশীলতা ও আঞ্চলিক উন্নয়নের দৃঢ় সংযোগের ওপর।এরই মধ্যে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, চলতি অর্থবছরে প্রকৃত রাজস্ব আদায় প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। সেখান থেকে আগামী অর্থবছরে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যপূরণ করতে হলে প্রায় ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। সিপিডির মতে, কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর ফাঁকি রোধ, করজাল সম্প্রসারণ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এত বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন বাস্তবে সম্ভব নয়।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় যে দুর্বলতা রয়েছে, তা দূর না করে শুধু উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলে বছরের শেষে আবারও রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হবে এবং সরকারকে অতিরিক্ত ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে।

বাস্তবতা হচ্ছে, অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দুই দিক থেকেই চাপ বাড়ছে এবং পরিস্থিতির শিগগিরই পরিবর্তন হবে এমন লক্ষণও নেই। এমন পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরের বিশাল এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয় বলে মনে করে অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে তারা এনবিআরকে রাজস্ব আহরণে বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা দেওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তারা।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা যাচ্ছে না। দেশে মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত আয়ের মানুষেরা। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার পথনির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এই মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ নিয়ন্ত্রণে পথনকশা নেই। ফলে এনবিআরের পক্ষে লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে। সব মিলিয়ে অর্থবছরের পুরো সময়ই রাজস্ব আহরণে চাপে থাকবে। আগামী অর্থবছরে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে হবে। বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ লক্ষ্যমাত্রা অনেকটা অসম্ভবই।পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, প্রকৃত রাজস্ব আদায় এই লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম।