TAXNEWSBD
কোম্পানি কর পাঁচ বছরের জন্য অপরিবর্তিত থাকছে
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ ১০:২০ পূর্বাহ্ন
TAXNEWSBD

TAXNEWSBD

শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে করপোরেট করের হার আগামী পাঁচ বছর অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে উৎসে করকে ন্যূনতম করের পরিবর্তে অগ্রিম হিসেবে বিবেচনা করা ও রপ্তানি প্রণোদনার ওপর কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এসব পদক্ষেপ থাকছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।দেশের বিনিয়োগের গতি ফেরানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশকে সহজ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এমন প্রস্তাবনা রেখেছে এনবিআর। সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা দিতে বিদ্যমান করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। তবে যেসব খাতে করের হার কিছুটা বেশি রয়েছে, করের পরিধি বাড়ানাের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে সেগুলো ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে।

ব্যবসায়িক তারল্য বাড়াতে ব্যবসার অনুমোদন অযোগ্য খরচ বাড়িয়ে এবং উৎসে কর কর্তন না করার কারণে ব্যয় অগ্রাহ্য করার বিদ্যমান বিধান বিলোপের মাধ্যমে বাজেটে করদাতার কার্যকরী করভার কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে। এ ছাড়া অডিটের জন্য মামলা নির্বাচন এবং উৎসে কর যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও অটোমেটেড করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাজেটে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে আগের মতোই ৫ শতাংশ বহাল রেখে করপোরেট করহার প্রস্তাব করবে এনবিআর। নতুন সংযোজন হচ্ছে, আইপিওর পাশাপাশি সরাসরি তালিকাভুক্ত (ডিরেক্ট লিস্টিং) হয়ে পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করলে করহার হবে সাড়ে ২২ শতাংশ। তবে এ ধরনের কোম্পানির সব আয় ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হলে করহার হবে ২০ শতাংশ। অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার হবে সাড়ে ২৭ শতাংশ। তবে এই শ্রেণির কোম্পানিও সব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে করলে করহার হবে ২৫ শতাংশ। ব্যাংক, বীমা ও ফাইন্যান্স কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে করহার সাড়ে ৩৭ অ-তালিকাভুক্ত হলে করহার হবে আগের মতো ৪০ শতাংশ। এ ছাড়া সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানির জন্য আগের মতোই সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ করহার থাকছে, সঙ্গে অতিরিক্ত আড়াই শতাংশ সারচার্জ যুক্ত থাকবে। মোবাইল অপারেটরদের জন্য সাধারণ করহার ৪৫ শতাংশই থাকছে। তবে কোনো কোম্পানি পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হলে করহার হবে ৪০ শতাংশ।

তবে মোবাইল কোম্পানিগুলোকে আরও বেশি পরিমাণ শেয়ার ছাড়তে উৎসাহিত করতে কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব করা হতে পারে। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো মোবাইল কোম্পানি কমপক্ষে ২০ শতাংশ শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে বিক্রি করলে সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বছরে প্রযোজ্য আয়করের ওপর ১০ শতাংশ হারে রেয়াত দেওয়া হবে। ব্যবসার নগদ প্রবাহ বা তারল্য বাড়াতে এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর উৎসে কর ছয় থেকে কমিয়ে চার শতাংশ করা হতে পারে। রপ্তানি আয় থেকে প্রাপ্ত নগদ প্রণোদনার ওপর উৎসে কর ১০ থেকে কমিয়ে পাঁচ এবং রিফাইনারি কর্তৃক জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর দেড় শতাংশ থেকে কমিয়ে এক শতাংশ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সংস্কার আসছে ন্যূনতম করের ক্ষেত্রে। এতদিন করযোগ্য বা কম আয় থাকা সত্ত্বেও উৎসে কর্তিত করকে বাধ্যতামূলক ন্যূনতম কর হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যা ব্যবসার পুঁজি সংকট তৈরি করত। আন্তর্জাতিক বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজেটে উৎসে কর্তিত করকে ন্যূনতম করের পরিবর্তে অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হবে। ফলে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত পরিশোধিত উৎসে কর ফেরত পাওয়ার পথ সুগম হবে। আগামী অর্থবছর থেকেই এ সুবিধা দিতে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।