TAXNEWSBD
এনবিআরের করজাল বিস্তারে নজর
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
TAXNEWSBD

TAXNEWSBD

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হচ্ছে। এই অঙ্ক চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্য ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরে তা সংশোধন করে ৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়; কিন্তু রাজস্ব আহরণের গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চলতি অর্থবছর শেষে সোয়া লাখ থেকে দেড় লাখ কোটি টাকার ঘাটতি থাকতে পারে। সে হিসাবে আগামী অর্থবছরে এনবিআরকে চলতি বছরের চেয়ে ২ থেকে আড়াই লাখ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে। এই বিশাল চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে করের ভিত্তি বাড়াতে তৃণমূল পর্যন্ত করজাল বিস্তারের পরিকল্পনা করছে এনবিআর। সংস্থাটির সূত্রে জানা গেছে, দেশে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের পরিধি এবার জেলা, উপজেলা ছাড়িয়ে গ্রাম পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পর্যন্ত টেনে নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য মাসিক ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার টোকেন ভ্যাট চালুর চিন্তা চলছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খোলা ও ট্রেড লাইসেন্স নিতে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও বিবেচনায় আছে। এনবিআর মনে করছে, গ্রামীণ অর্থনীতির বিশাল অংশ এখনও আনুষ্ঠানিক করব্যবস্থার বাইরে। ব্যাংক হিসাব ও ট্রেড লাইসেন্সের জন্য বিআইএন বাধ্যতামূলক হলে লাখ লাখ নতুন ব্যবসা করজালে চলে আসবে।প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এমন ইঙ্গিত দেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে নির্দিষ্ট কিছু খাতে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে ভ্যাট চালু করা হতে পারে।জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য-যুদ্ধ, বৈশ্বিক মন্দা ও শ্লথ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাবে আমদানি শুল্ক কমে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রাজস্ব আদায় বড় ধাক্কা খেয়েছে। জুলাই-মার্চ সময়ে এনবিআর আদায় করেছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা, যেখানে লক্ষ্য ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ঘাটতি ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪ অনুযায়ী দেশে বর্তমানে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ১ কোটি ১৭ লাখ। ২০১৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৮ লাখ। এর মধ্যে ৯৯ শতাংশের বেশি কুটির, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং ৭৪ শতাংশই গ্রামীণ এলাকায়। অথচ এনবিআরের তথ্য বলছে, বর্তমানে মাত্র ৮ লাখ প্রতিষ্ঠানের বিআইএন আছে। এর মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয় ৫ লাখের কিছু বেশি। এনবিআর চেয়ারম্যানের মতে, অন্তত ১ কোটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিআইএন তথা ভ্যাটের আওতায় আসা উচিত।সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ ট্রেড লাইসেন্স দিলেও কতগুলো ব্যবসা সচল; সে তথ্য এনবিআরের কাছে নেই। আবার দেশে ব্যাংক হিসাব ১৭ কোটির বেশি হলেও এর মধ্যে কতগুলো ব্যবসায়িক হিসাব, তার সমন্বিত ডেটাও নেই।কর্মকর্তারা বলছেন, এই তথ্যঘাটতি দূর করে তৃণমূলের ব্যবসা থেকে রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা যাচাই করতেই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হলে গ্রামীণ ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে করের আওতায় আনার বিকল্প নেই।তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, হিসাবরক্ষণ ও রিটার্নের ঝামেলা তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এনবিআর আশ্বস্ত করেছে, গ্রামীণ ব্যবসার জন্য ‘টার্নওভার ট্যাক্স’ ও ‘ফিক্সড ভ্যাট’ পদ্ধতি সহজ করা হবে এবং অ্যাপভিত্তিক নিবন্ধন ও রিটার্ন চালু করা হবে।আগামী বাজেটে এসব পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন এনবিআর কর্মকর্তারা।