
কৃষিপণ্য সরবরাহের বিপরীতে উৎসে কর কর্তন অব্যাহতির প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)। এছাড়া ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে একক ডিজিটে করা, ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাটের হার ৭.৫ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা, ৫০ শতাংশ বেশি অব্যাহতি পাওয়া উপকরণ দিয়ে তৈরি পণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি চেয়েছে সংগঠনটি।মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরে সংগঠনটি। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।এছাড়া মিনারেল ওয়াটার (তিন লিটার পর্যন্ত) থেকে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে বাপা। এ বিষয়ে সংগঠনটি জানায়, বড় শহরগুলোতে বিশুদ্ধ পানির নির্ভরযোগ্য উৎস মিনারেল ওয়াটার। মিনারেল ওয়াটার কোনো বিলাসী পণ্য নয়। এটা জরুরি পণ্য। এই পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক ধার্য করা কেবল অযৌক্তিক নয়, অন্যায়ও বটে।সংগঠনটি বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক নিরীক্ষা চলাকালীন প্রতিষ্ঠানের পণ্য আমদানি কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সাময়িক প্রাপ্যতা অনুমোদনের প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া মাসভিত্তিক বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের ইউপি অনুমোদন ও ভিন্ন ভিন্ন কমিশনারেটের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অব্যাহতি বন্ড সুবিধা প্রদান করাত প্রস্তাব করা হয়।
সব শুনে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, বাপার সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করবে এনবিআর।এদিকে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাজেট প্রস্তাবে টার্নওভার কর কমানোর দাবি জানায়। এছাড়া সংগঠনটি করপোরেট কর কমানো ও কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করে সংগঠনটি।এর জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, টার্নওভার কর ২ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রচণ্ড চাপ আছে। এই বছর এটাকে বাড়িয়ে আড়াইগুণ করার জন্য প্রচণ্ড চাপ আছে আমাদের ওপর। ১% কে ২.৫% করা এবং অ্যাক্রস দ্য বোর্ড সবার জন্য। তো সেটাও আমরা উইথস্ট্যান্ড করার চেষ্টা করতেছি। আমরা আপনাদের সঙ্গে একমত, এটা না করে যদি পারি চেষ্টা করবো। কিন্তু কমানো খুব ডিফিকাল্ট।আবদুর রহমান খান বলেন, আন্তর্জাতিক ট্যাক্সেশন লিটারেচার বলে যে কোম্পানিগুলোর প্রফিটের ওপর ট্যাক্স হবে। প্রফিট না হলে টার্নওভারের ওপর ট্যাক্স দিলে সেটা ইনডাইরেক্ট ট্যাক্স হয়ে যায়, এটা সত্য কথা। আবার এটা করতে আমরা বাধ্য হয়েছি যেহেতু আমাদের ওভারঅল ট্যাক্স কালেকশন অনেক কম। আমাদের কালেকশন বাড়াতে হবে, যেটার কাজ করে আমরাও পরিষ্কার না। কিন্তু সত্যিকার অর্থে যেহেতু আমাদের সব জায়গাতেই রিপোর্টিং, হিসাব-নিকাশ দেখানো এর মধ্যে গ্যাপ আছে, সে কারণেই এরকম একটা শর্টকাট পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে।
একটা গবেষণা কখনো হয় না। আমরা ট্যাক্স কমালাম, সরকার ট্যাক্স কমে ফেললো। এই যে কর অব্যাহতিগুলো আমরা দেই, তার সুবিধা জনগণের কাছে যায় কি না, সেটাও একটু আপনাদের এনশিওর করতে হবে। সরকার আমাদের কিছু ছাড় দিয়েছে, তার বিপরীতে আমরা মানুষকে কমদামে সার্ভিস দিচ্ছি। সেটা কিন্তু সহসা হয় না। সাধারণের মধ্যে একটা পারসেপশন আছে, সরকার যেই ট্যাক্স এবং ভ্যাট সুবিধা দেয়, সেটার সুবিধা আলটিমেটলি জনগণের কাছে পৌঁছে না; এটা মাঝখানে বিভিন্ন জায়গায় হাতবদল হয়ে যায়। এটাও একটু খেয়াল করতে হবে যোগ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।