
বাংলাদেশে করদাতার পরিচয় শনাক্ত করা এবং আয়কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যবসা পরিচালনা, গাড়ি নিবন্ধন, ব্যাংকঋণ গ্রহণসহ বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে এই নম্বর প্রয়োজন হতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও টিআইএন সনদ জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
টিআইএন হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দেওয়া করদাতার স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর। আয়করসংক্রান্ত কার্যক্রমে করদাতাকে শনাক্ত করা এবং তার করসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণে এটি ব্যবহৃত হয়। তবে সব নাগরিকের জন্য সব ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক নয়। কোন কাজে এটি প্রয়োজন হবে, তা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধানের ওপর নির্ভর করে।
যেসব কাজে প্রয়োজন হতে পারে টিআইএন
চাকরি ও আয়করসংক্রান্ত কাজ: নির্দিষ্ট আয়সীমা অতিক্রমকারী ব্যক্তি এবং আইন অনুযায়ী যাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, তাদের টিআইএন প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্তে এই নম্বরের প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যবসা ও লাইসেন্স: ব্যবসা পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া বা নবায়ন, নির্দিষ্ট ধরনের পেশাগত লাইসেন্স এবং রপ্তানিসংক্রান্ত নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিআইএন লাগতে পারে। তবে সব ধরনের লাইসেন্সের শর্ত এক নয়।
গাড়ি ও জমি-ফ্ল্যাট নিবন্ধন: গাড়ি নিবন্ধন বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ফিটনেস নবায়ন এবং জমি বা ফ্ল্যাট কেনাবেচা ও নিবন্ধনের সময় টিআইএন প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সম্পত্তির অবস্থান ও লেনদেনের ধরন অনুযায়ী বিধান প্রযোজ্য হয়।
ব্যাংকিং ও ঋণ: নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি ব্যাংকঋণ নেওয়া এবং ক্রেডিট কার্ডের আবেদনসহ কিছু আর্থিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে টিআইএন বা আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণ চাওয়া হতে পারে।
পেশাজীবীদের কার্যক্রম: চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর নির্দিষ্ট নিবন্ধন বা সনদ গ্রহণের ক্ষেত্রে টিআইএন প্রয়োজন হতে পারে।
নির্বাচন ও অন্যান্য কার্যক্রম: সংসদ বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ গ্রহণের ক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী টিআইএন বা করসংক্রান্ত নথি জমা দেওয়ার শর্ত থাকতে পারে। এ ছাড়া কিছু আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ও অন্যান্য নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণেও এটি প্রয়োজন হয়।
যেভাবে সংগ্রহ করবেন টিআইএন
টিআইএন সনদ সংগ্রহের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় (etaxnbr.gov.bd) নিবন্ধন করতে হয়। এনবিআরের ই-টিআইএন সেবা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করা যায়। এ জন্য এনবিআরের সরকারি ওয়েবসাইটের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।