TAXNEWSBD
উচ্চ স্পেকট্রাম মূল্য ও করের কারণে টেলিকমে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:৪৫ অপরাহ্ন
TAXNEWSBD

TAXNEWSBD

বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যবহার ও উন্নত সংযোগের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের ব্যয়ের চাপে রয়েছে টেলিযোগাযোগ খাত। উচ্চ স্পেকট্রাম মূল্য, কর ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন চার্জের কারণে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বাড়াতে স্পেকট্রামের যৌক্তিক মূল্য, স্থিতিশীল নীতিমালা ও টেকসই ব্যয় কাঠামো নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন আজিয়াটা গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিক রিজাল কামিল।দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ব্যবসা রয়েছে আজিয়াটা গ্রুপের। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী কোম্পানি রবি আজিয়াটা পিএলসি এবং অবকাঠামো সেবাদাতা এডটকো কার্যক্রম পরিচালনা করছে। টেলিকম খাতের কোম্পানি রবির ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে আসেন এর মূল বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ার আজিয়াটা গ্রুপের সিইও নিক রিজাল কামিল। সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আজিয়াটা গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, শক্তিশালী অর্থনীতি, বিপুল জনসংখ্যা ও ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণের কারণে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় বাজার। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য নীতির ধারাবাহিকতা, ব্যয়ের পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং গ্রহণযোগ্য মুনাফার সুযোগ থাকা জরুরি।

নিক রিজাল কামিল বলেন, মালয়েশিয়ার টেলিযোগাযোগ খাতে রাজস্ব বৃদ্ধির হার সাধারণত ১ থেকে ২ শতাংশ। বাংলাদেশে তা প্রায় ৭ থেকে ৯ শতাংশ। উন্নত সংযোগের চাহিদা ও ডিজিটাল সেবা প্রসারের কারণে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। তবে সেই চাহিদা পূরণে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তি উন্নয়নে নিয়মিত বিনিয়োগ প্রয়োজন।নিক রিজাল কামিলের মতে, মোবাইল নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়াতে অপারেটরদের স্পেকট্রাম প্রয়োজন। কিন্তু এর দাম বেশি হলে নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বিনিয়োগের সক্ষমতা কমে যায়। স্পেকট্রাম বরাদ্দের ক্ষেত্রে সরকারের রাজস্ব আয় ও অপারেটরদের বিনিয়োগ সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। মূল্য যৌক্তিক হলে নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বেশি অর্থ ব্যয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যার সুফল পাবেন গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা।সিম কর প্রত্যাহারের সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ অপারেটরদের ব্যয়ের চাপ কমাতে পারে। এতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মান উন্নয়নে ব্যবহার করা সম্ভব।আজিয়াটার সিইও আর বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য কর ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর স্থিতিশীলতাও গুরুত্বপূর্ণ। নীতিতে ঘন ঘন পরিবর্তন হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা কঠিন হয়। তাই স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, করনীতি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক ভালো চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন।তিনি বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতে যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি কেনার বড় অংশের ব্যয় বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয়। অন্যদিকে অপারেটরদের আয় আসে মূলত দেশীয় মুদ্রায়। ফলে বিনিময় হারের পরিবর্তন ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ব্যয় বেড়ে যায়। এ কারণে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।নিক রিজাল কামিল বলেন, নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রাধিকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে পারে। তবে এ আস্থা ধরে রাখতে নীতির ধারাবাহিকতা ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা প্রয়োজন।

তাঁর মতে, টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু সংযোগসেবা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয় নেটওয়ার্ক, ক্লাউড, তথ্যকেন্দ্র ও ইন্টারনেট অব থিংসের মতো প্রযুক্তি এ খাতের ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত নীতিমালা, অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল।আজিয়াটার প্রধান নির্বাহী বলেন, বাংলাদেশে পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ফাইভ-জি চালুর সম্ভাবনা থাকলেও এর বিস্তারে শুধু নেটওয়ার্ক স্থাপন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন উপযোগী হ্যান্ডসেট, উন্নত ফাইবার অবকাঠামো, কার্যকর ব্যবহার ক্ষেত্র এবং গ্রাহক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয়ও জরুরি। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও ডিজিটাল সেবার প্রতি মানুষের আস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল সেবার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্কের গুরুত্বও বাড়ছে।নিক রিজাল কামিলের মতে, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিনিয়োগের ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা, নীতিমালা আধুনিক করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা জরুরি। এতে অপারেটরদের বিনিয়োগের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের উন্নত ও নির্ভরযোগ্য সেবা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।